এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে এবার ইসরায়েলে দফায় দফায় শক্তিশালী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ধারাবাহিক হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের অবৈধ বসতি এবং একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইসরায়েলের মিসগাভ আম বসতি এবং কাফার গিলাদি অঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে রকেট হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও জারিট ব্যারাক লক্ষ্য করেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক স্থানে স্থাপনাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ওই সব এলাকা থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত এই সব হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে হিজবুল্লাহ দাবি করেছিল, তারা মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বড় ধরণের রকেট ব্যারেজ ছুড়েছে।
তাদের ভাষ্যমতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এরই প্রতিবাদে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার তাগিদে তারা এই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হিজবুল্লাহর সামরিক সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ২০ মিনিটে কিরিয়াত শমোনা শহর এবং রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ডোভিভ বসতিতে এই রকেট হামলা চালানো হয়।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে মোট ৪৩টি হামলা চালানো হয়েছে। এই সব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি, বিভিন্ন বসতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো।
সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুরো অঞ্চলে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও এই হামলার পর সীমান্তে তাদের নজরদারি ও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন