সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দীর্ঘ পাঁচ দফা সফল আলোচনার পর একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে লেবানন ও ইসরায়েল। গত শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যকার এই বিশেষ সমঝোতা চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি অংশ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় একটি নতুন মোড় আসতে পারে।তবে এই সমঝোতা চুক্তিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানান, এই পদক্ষেপটি মূলত একটি দীর্ঘ শান্তি প্রক্রিয়ার শুরুরও শুরু। পরবর্তীতে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সমন্বয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা প্রদান করবে। এর পাশাপাশি লেবাননের জাতীয় সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। 

এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং সীমান্ত থেকে স্থায়ীভাবে হুমকি দূর করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নতুন কোনো আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে না, বরং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৭০১ এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নকেই বেগবান করবে। 

মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে চুক্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশ না নিলেও তাদের সাথে পরোক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনে চলমান এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও চুক্তিকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে উড়িয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহর নীতিনির্ধারকেরা।সশস্ত্র সংগঠনটির মহাসচিব নাইম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইসরায়েলকে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড ছেড়ে অবিলম্বে চলে যেতে হবে। 

লেবাননের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো আপস বা প্রতিশ্রুতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এই ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই। চুক্তির প্রতিবাদে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল এখনও দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ নিজেদের দখলে রেখেছে এবং নতুন এই সমঝোতায় সেই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা বা প্রতিশ্রুতি না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এটিকে লেবাননের একপ্রকার আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স