অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের পুনরায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সামনে আনার পর এই পদক্ষেপকে সরাসরি স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বার্নহাম জানান, ইউরোপের সাথে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর তার মধ্য-বামপন্থী লেবার প্রশাসন পুরো পথ এগিয়ে সরাসরি জোটে ফেরার প্রস্তাবও উপস্থাপন করতে পারে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিভাজনমূলক ব্রেক্সিট বিতর্ক আবার নতুন করে সামনে এলো। ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবিলম্বে বার্নহামের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের ঐতিহাসিক গণভোটের পর যুক্তরাজ্যে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তা নতুন করে ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। গত জুলাই মাসে দলীয় সংসদ সদস্যরা কিয়ার স্টারমারকে সরকারপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বার্নহাম।
লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তটি লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে এনেছে। ব্রেক্সিটের কারণে এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং নিজেদের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি পুনর্নির্ধারণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি পূর্বনির্ধারিত শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেট এবং কাস্টমস ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সরাসরি জোটে ফিরে আসার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং প্রতিটি পথের লাভ-ক্ষতি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাখোঁ বার্নহামের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানান। মাখোঁ মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ জনগণ যদি ফিরে আসতে চায় এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী যদি সেই লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেন, তবে তা যুক্তরাজ্যের জন্য যেমন ভালো হবে, তেমনি সমগ্র ইউরোপের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা বহন করবে।
বক্তব্য শেষে তিনি যুক্তরাজ্যকে সরাসরি ফিরে আসার আহ্বান জানান। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজও এই অবস্থানের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় সদস্যপদের আবেদন জানালে স্পেন তা সানন্দে গ্রহণ করবে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ব্রিটিশ জনগণের জন্য আবারও নিজেদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। যুক্তরাজ্যের সাথে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনের পুরো দায়িত্ব লন্ডন প্রশাসনের ওপর বর্তায়।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বালাজ উজভারিই স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য জোটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে তারা কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায়, সেই প্রস্তাব যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেই আসতে হবে এবং যেকোনো ইতিবাচক বিকল্প নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় বসতে ইউরোপীয় কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন