বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
পানি নিষ্কাশন উন্নয়ন

মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসনের প্রথম পর্যায় উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সমবেত জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং অনুষ্ঠানস্থলে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। সেই সাথে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী ধাপে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সামগ্রিক সংস্কারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে সমাপ্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু উপস্থিত ছিলেন।

সকাল আটটা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে দুপুর সোয়া একটার দিকে ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

পরশুরামের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শনে গিয়ে ভবনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ছাগলনাইয়ার স্থাপনাগুলো থেকে ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরাম থেকে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজী উপজেলায় স্থাপিত কেন্দ্রগুলো থেকে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠের সমাবেশে যোগ দিয়ে সুবিধাভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেন সরকারপ্রধান। একই মঞ্চ থেকে এলাকার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়।

ফুলগাজী উপজেলায় মোট ৫১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

পুরো জেলাজুড়ে সাত হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে এই কার্ডের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পূর্বে সেখানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় নীতিগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।