বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর শীর্ষক নীতি সংলাপ

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

দিনাজপুরে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর শীর্ষক নীতি সংলাপ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর শীর্ষক এক স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের সুইহারীস্থ বেসরকারি সংস্থা এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বা জেটনেট-বিডি, সাথী, এসআইডিপি, পল্লীশ্রী এবং গ্রাম উন্নয়ন প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুব নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

সংলাপে স্থানীয় বাস্তবতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করে জাতীয় নীতিমালার সাথে তৃণমূল চাহিদার সমন্বয় ঘটানোর জোর দাবি জানানো হয়। সামাজিক সংস্থা সাথীর সভাপতি মোঃ ইয়াকুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য তুলে ধরেন গ্রাম উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফরিদা বেগম। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব ও একশনএইড বাংলাদেশের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ক্ষতিকর অতি-নির্ভরশীলতা হ্রাস করার পাশাপাশি সেচ, কৃষি ও সোলার প্রযুক্তিতে স্থানীয় তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে অতীতের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দূর করার আহ্বান জানান আলোচকরা। দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল উল্লেখ করেন যে অতীতে মানহীন সোলার প্রকল্পের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরূপ ধারণা কাটিয়ে উঠতে মানসম্মত সরঞ্জাম নিশ্চিত করে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান বলেন সৌরবিদ্যুৎ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এমন ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সরাসরি প্রদর্শনীর মাধ্যমে এর বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। 

নেসকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম হাওলাদার নিজ কার্যালয়ে দশ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল ব্যবহার করে প্রতি মাসে পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অপরিকল্পিত উদ্যোগ বন্ধে প্রতিটি প্রকল্পের পূর্বে দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান যেকোনো টেকসই সোলার উদ্যোগ গ্রহণের আগে সঠিক সমীক্ষা পরিচালনা করা জরুরি। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সিডিএর কর্মকর্তা অনামিকা পান্ডে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উপযোগী ভবনের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং এতে তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। 

সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বরেন্দ্রর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান অ্যাগ্রোভোল্টাইক প্রযুক্তির আওতায় তিন হাজারটি কৃষি সেচ পাম্পে সোলার স্থাপন ও নেট মিটারিং চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেচ মৌসুম ছাড়া বাকি সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উন্মুক্ত আলোচনায় নীতি ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও মূল্যবান মতামত তুলে ধরা হয়।

মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিসিক দিনাজপুরের উপ-পরিচালক মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বিআরবির ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ রাজিউর রহমান, নেসকোর নির্বাহী পরিচালক রুবেল ইসলাম, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোফাসসেরুল মাজেদ, এনজিও ফোরামের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ নাসিম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা প্রভাতী রানী। সমাপনী বক্তব্যে সমাজ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোজাফফর হোসেন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে সভার ইতি টানেন।