বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

এমপি মিষ্টির পদত্যাগের পর জামায়াত আমিরের বার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

এমপি মিষ্টির পদত্যাগের পর জামায়াত আমিরের বার্তা

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শুধু দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্বও সরকারকে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে রাতের অন্ধকারে চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল অবশেষে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এত বড় ন্যাক্কারজনক অপকর্মের বিচার কেবল রাজনৈতিক বহিষ্কার বা পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকারের কাছে সশরীরে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি লিখিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে মিরপুরের চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে হামলা ও দখলচেষ্টার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই সংসদ সদস্য। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে ঘটনাটিতে দলীয় ওই এমপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ মিললে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। মিষ্টি ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে গণমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও দখলের ঘটনার সাথে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি।