বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উক্ত সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, পূজা ফ্রন্ট এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনার উদ্ধৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার পূজাকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা বা সতর্কবার্তা নেই। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এবার সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। পূর্ববর্তী বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি এবং তার আগের বছরগুলোতে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার যুক্ত হয়ে এই অবকাশ মোট পাঁচ দিনে রূপ নেবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইতিবাচক রূপ নিয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকেই বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তবুও উৎসবের দিনগুলোতে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করবেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চলতি বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মণ্ডপগুলোতে নজরদারি আধুনিকায়নে বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার যে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছিল, এবার পূজায় নিরাপত্তা তদারকিতে সেই অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে দ্রুত কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য জানানো যাবে।

এর ফলে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে। এই ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহারের জন্য জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগীয় রেঞ্জ এবং জেলা পুলিশ কার্যালয়ে চব্বিশ ঘণ্টা সচল মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। পূজা চলাকালে প্রতিটি মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লোডশেডিং বা জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় মণ্ডপ পরিচালনা কমিটিকে বিকল্প হিসেবে সার্বক্ষণিক সচল জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি জেনারেটর বিকল হলে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য বিকল্প হিসেবে রিচার্জেবল লাইট মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।