মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
মাদক মামলা

পরীমণির মাদক মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

পরীমণির মাদক মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর

রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। মামলার অপর দুই অভিযুক্ত আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক রবিউল আলম আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির এই নতুন দিন ধার্য করেন।

আদালতে পরীমণির শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুনানি পেছানোর লিখিত আবেদন জানান তার নিযুক্ত আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)। আইনজীবী আদালতে পরীমণির পক্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক হাজিরা দাখিল করে শুনানি স্থগিতের যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে পরীমণি কিছুদিন আগে পায়ে চোট পেয়ে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার হঠাৎ করে পায়ে তীব্র ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক চলাফেরা করতে তার মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। শারীরিক এই অসুস্থতার কারণেই তিনি সশরীরে এজলাসে উপস্থিত হতে পারেননি জানিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য আদালতে সময়ের প্রার্থনা করা হয়।

আসামিপক্ষের এই আবেদন নাকচ করে পরীমণির জামিন বাতিলের জোর দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি যুক্তি দেখান যে এই আসামি কয়েক বছর ধরে আদালতে নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন জানাচ্ছেন, যা আইনগতভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্রপক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক শেষ পর্যন্ত আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানী এলাকায় অবস্থিত পরীমণির ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযান পরিচালনার পরদিন ৫ আগস্ট র‍্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি এবং তদন্ত শেষে একই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, পরীমণির বাসা থেকে উদ্ধার করা মাদকের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে সিআইডিকে লিখিতভাবে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তার অনুকূলে মদজাতীয় পানীয় সেবনের একটি লাইসেন্স ইস্যু করা হলেও তার মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, তিনি অপর দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করে নিজের বাসায় মজুদ রেখেছিলেন। এসব উপাদান সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি কোনো আইনগত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন এবং নিজের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটি মাদক পরিবহনে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারিক আদালত অভিযোগ গঠন করলে পরীমণি সেই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। ২০২২ সালের ১ মার্চ উচ্চ আদালত তিন মাসের স্থগিতাদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেন এবং পরবর্তীকালে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পুনরায় শুনানির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।