নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে শরীরের রক্ত জমাট বাঁধা এবং স্বাভাবিকভাবে ক্ষত সারানোর ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ডেঙ্গু, ভাইরাল সংক্রমণ বা বোন ম্যারোর অসুখেও এই সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে হঠাৎ রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বারবার সংক্রমণের মতো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।রক্তে প্লেটলেট তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও মিনারেল অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যতালিকায় এগুলো যুক্ত করলে ঘাটতি দূর হয়:
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন-সি প্লাটিলেট বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের কারণে প্লাটিলেটের ক্ষতি থেকেও রক্ষা করে।
এর জন্য নিয়মিত কমলা, লেবু, কিউই, পেঁপে, স্ট্রবেরি ও বেল পেপার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।ফোলেট-সমৃদ্ধ খাবার (ভিটামিন বি-৯): ফোলেট কোষ বিভাজন ও নতুন প্লাটিলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পালং শাক, শিম, মুসুর ডাল, বিট ও অ্যাভোকাডো নিয়মিত খেলে প্লাটিলেটের ঘাটতি দূর হতে সাহায্য করে।ভিটামিন বি-১২ ও আয়রন: রক্তস্বল্পতা ও প্লেটলেট কমে যাওয়ার পেছনে ভিটামিন বি-১২ বা আয়রনের অভাব দায়ী হতে পারে।
তাই খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, কুমড়োর বীজ এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের নির্দেশে সাপ্লিমেন্টও নিতে হতে পারে।প্লাটিলেট বাড়ানোর ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে পেঁপে পাতার রস অনেক দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি কার্যকারিতার জন্য বহুল পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন কাঁচা পাতা সরাসরি চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। তাই বাজারে পাওয়া স্ট্যান্ডার্ডাইজড প্রস্তুত রসই নিরাপদ।
এটিও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেবন করা উচিত।খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা প্লেটলেট পুনরুদ্ধারে সহায়ক। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান রক্তের ভলিউম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, অ্যালকোহল গ্রহণ কমাতে হবে, কারণ এটি বোন ম্যারোর ক্ষতি করে প্লাটিলেট তৈরিতে বাধা দিতে পারে। দ্রুত সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং হালকা ব্যায়াম শরীরকে স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং প্লেটলেট উৎপাদনে সহায়তা করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন