এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একটি সমন্বিত ও কৌশলগত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার ৮ এপ্রিল সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে পর্বে তিনি এই কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাদশ দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী পর্যটন, সামাজিক নিরাপত্তা ও নারী শিক্ষার প্রসার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার এবং কমিউনিটি ও ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তিনি আরও জানান, `জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা`র একটি খসড়া এরই মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
যাতে আগামী ২০ বছরের জন্য উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটন ও স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। বর্তমানে ৩০টির বেশি জেলায় পর্যটন গন্তব্য থাকলেও পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলার ঐতিহ্য অনুযায়ী পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী `ফ্যামিলি কার্ড` প্রকল্পের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান। তিনি বলেন, পরিবারকে উন্নয়নের মূল একক হিসেবে বিবেচনা করে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে এই কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা, যা নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করবে।
নারী শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান ইতিবাচক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নারী শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি উপজেলা সদরে অন্তত একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সহজ সুযোগ পাবে যা জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
অধিবেশনের এই প্রশ্নোত্তরে পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সংসদীয় এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের আসন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন