সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
বলপূর্বক অন্তর্ধানের অবসান ঘটিয়ে অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। পাস হওয়া নতুন আইনে জোরপূর্বক গুমের অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুম হওয়া ব্যক্তি মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকলে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আইনের ধারা অনুযায়ী, গুমের শিকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে কিংবা পাঁচ বছরের অধিক সময় নিখোঁজ থাকলে আদালত দোষী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন। বিলে এই অপরাধকে সরাসরি আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন বা সহায়তায় কাউকে বেআইনিভাবে আটক রেখে তা অস্বীকার করলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্পষ্টতই এই আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নিখোঁজদের উদ্ধার ও ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের মধ্যে তদন্ত ও বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা এবং ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী, মামলার সাক্ষী এবং তথ্য প্রকাশকারীদের বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে একটি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে এবং এই ক্ষতিপূরণের অর্থ মূলত দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে আদায় করা হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীলদের ভরনপোষণে তাঁর সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরাধিকার নিষ্পত্তিতে পাঁচ বছর পর অনুপস্থিতির সনদ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন