এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করাই সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার সকাল ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা ও উত্তরণের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জগুলো অত্যন্ত গভীর এবং বহুমাত্রিক।
তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করা, কাঠামোগত সংস্কার এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে কেবল অর্থনৈতিক কাঠামোই নয়, বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।বিগত সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন যে এসব বড় প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না, বরং এর মাধ্যমে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
যখন কোনো দেশের শিল্পের চালিকাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়, তখন সেখানে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা কমে যায়। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ঠিক এই পরিস্থিতিই চরমভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে আগের বিএনপি সরকার অর্থনীতির মূল সূচকগুলোকে যে ইতিবাচক ধারায় রেখে গিয়েছিল, তা গত ১৬ বছরে প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে অর্থমন্ত্রী দেশবাসীকে সরকারের ভবিষ্যৎ দর্শন ও নীতিকৌশল সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একটি উন্নত, মর্যাদাশীল এবং বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ এই লক্ষ্য পূরণের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হচ্ছে। দেশবাসীকে এই নতুন যাত্রায় সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর সংসদীয় বিবৃতি শেষ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন