রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

তেলের জন্য চালু হলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ আবেদনের নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

তেলের জন্য চালু হলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ আবেদনের নিয়ম

ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেল নিতে ফুয়েল পাস কার্ড

জ্বালানি তেল বিতরণে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এবং সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই ডিজিটাল উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে। 

বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন পদ্ধতির কথা জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্টেশন দুটি হলো তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে বর্তমানে প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হচ্ছে। এর সুযোগ নিয়ে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। 

এই ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিটি যানবাহনের তেল উত্তোলনের রিয়েল-টাইম মনিটরিং বা তাৎক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত হবে। এর ফলে তেলের অপচয় কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে আশা করছে সরকার।এই সিস্টেমটি মূলত বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে। ফলে কোনো গাড়ি তেল নিতে এলে তার সঠিক তথ্য ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা সহজ হবে। যাদের স্মার্টফোন নেই তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই; তারা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে পারবেন। 

তেল নেওয়ার সময় পাম্পে সেই কোডটি স্ক্যান করলেই চালকের জন্য নির্ধারিত তেলের বরাদ্দ স্ক্রিনে দেখা যাবে। এতে করে পাম্প মালিকরাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেলের মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন যা কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড থেকে তদারকি করা সম্ভব হবে।ফুয়েল পাস কার্ডের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ। গ্রাহককে প্রথমে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে বিআরটিএ কর্তৃক নিবন্ধিত গাড়ির নম্বর এবং মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে। 

তথ্য প্রদানের পর ব্যবহারকারীর সচল ফোন নম্বরে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। সেটি সাবমিট করে যাচাই শেষ হলে অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আবেদন করার সময় গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), গাড়ির ব্লু-বুক, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ডিজিটাল ফরমেটে প্রয়োজন হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে যে ঢাকার এই পাইলট প্রকল্প বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারের এই আধুনিক পদক্ষেপের ফলে জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ চালকরাও মনে করছেন এই পদ্ধতি কার্যকর হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার ভোগান্তি থেকে তারা মুক্তি পাবেন।