রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

পাহাড়ি ও সমতলের জনগণের সমঅধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে সরকার। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বার্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা ও ভাষাগত গোষ্ঠী বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি দেহের মতো।

তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তিনি জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এই দর্শনের ভিত্তিতে ভাষা বা বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী। যারা বৈচিত্র্যকে বিভাজনের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাদের তিনি দেশবিরোধী হিসেবে অভিহিত করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কৃতির সহাবস্থান একটি সমাজকে আরও শক্তিশালী করে।

পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সমান অবস্থানে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত। তবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ মেধাবিরোধী নয়। বরং এটি জাতীয় সংহতি রক্ষার জন্য অপরিহার্য। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের উদ্যোগের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। বম, খেয়াং ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এবারের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় তিনি পাহাড়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণে এই অঞ্চলটি আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিএইচটি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও মাধবী মার্মাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা। পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা এই পুনর্মিলনী সভায় অংশগ্রহণ করেন।