মে ১৫, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ফারাক্কা বাঁধ অব্যাহতভাবে চালু থাকায় এটি এখন বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জনমানুষের ভোগান্তি কমবে না।মির্জা ফখরুল এই বাঁধকে দেশের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।বিবৃতিতে বলা হয়, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে সেই মিছিলে লাখো জনতা অংশ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর কাড়েন। ফখরুল সেই সংগ্রামের তাৎপর্য উল্লেখ করে বলেন, ফারাক্কা দিবস আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
মওলানা ভাসানীর সেই অকুতোভয় প্রতিবাদ আজও এ দেশের মানুষকে স্বাধিকার ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়।বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন যে, ভারতের গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার শুরু করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে এই বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। সেই বাঁধের বিরূপ প্রভাবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পানিসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শুধু গঙ্গা নয়, ভারত থেকে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড ক্রমেই উষর হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেন।ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেওয়া কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন তোয়াক্কা না করে পানির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার ফলাফল শুভ হবে না। এ দেশের প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এখন সময়ের দাবি। তিনি সকলকে এই জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তার বিবৃতি শেষ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন