মে ২৭, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
কোরবানি ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, যা কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। প্রতি বছর জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে মুসলিমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পশু কোরবানি সম্পন্ন করে থাকেন।
তবে ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর গোশত কেনাবেচা করার এক ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী কোরবানির গোশত বিক্রি করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
রাজধানীর জামিয়া ইসলামি বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী এই বিষয়ে জানান, যেহেতু কোরবানির পশু সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়, সেহেতু এর কোনো অংশ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও অন্যান্য অংশ সদকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং জবাইকারীর পারিশ্রমিক সেখান থেকে দিতে নিষেধ করেছিলেন। ফলে নিজের কোরবানির পশুর কোনো অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার সুযোগ ইসলামে নেই।কোরবানির পশুর চামড়া, চর্বি বা হাড় বিক্রি করাও বৈধ নয়।
বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার উল্লেখ করেন যে যদি কোনো ব্যক্তি অবশত বা ভুলবশত কোরবানির পশুর গোশত বা অন্য কোনো অংশ বিক্রি করে ফেলেন, তবে প্রাপ্ত অর্থ নিজের কাছে রাখা যাবে না। সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ সম্পূর্ণভাবে কোনো গরিব বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সদকা করে দিতে হবে। আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই এই ইবাদতের প্রতিটি নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন