মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

মুসলিম ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় পবিত্র কোরআনের শিক্ষা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

মুসলিম ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় পবিত্র কোরআনের শিক্ষা

বিশ্ব যত আধুনিক হচ্ছে, মানুষ যেন তত একাকী হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষ মানুষকে ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি আনলেও হৃদয়ের দূরত্ব কমাতে পারেনি। বর্তমান পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে এমনকি একই ঈমানের বন্ধনে আবদ্ধ মুসলিমদের মধ্যেও বিভক্তি, বিদ্বেষ  ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মতপার্থক্য আজ শত্রুতায় রূপ নিচ্ছে, আর ভিন্নমতকে সম্মান করার চমৎকার সামাজিক সংস্কৃতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন এক বাস্তবতায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সম্পর্ক ও এর বাস্তব দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করা অপরিহার্য।

ইসলামি সভ্যতার মূল সামাজিক দর্শনই হলো মুসলিমদের পারস্পরিক সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ব।পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, তাই তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া এবং আল্লাহকে ভয় করা আবশ্যক যাতে তারা রহমতপ্রাপ্ত হয়। ইসলাম মানুষকে বর্ণ, ভাষা, গোত্র কিংবা রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ না করে ঈমানের এক সর্বজনীন ও অভিন্ন সুতোয় গেঁথেছে। 

এই বন্ধন শুধু মুখের কোনো ফাঁকা দাবি নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর জুলুম করতে পারে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারে না এবং তাকে বিন্দুমাত্র অপমানও করতে পারে না। বর্তমান যুগে সামান্য মতভেদের কারণে একে অপরের সম্মান নষ্ট করার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা সম্পূর্ণ নববী শিক্ষার পরিপন্থী।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনদের একটি জীবন্ত দেহের সাথে তুলনা করেছেন। দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে যেমন পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় ভোগে, তেমনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মুসলমানের কষ্ট অন্য মুমিনকে ব্যথিত করবে। সাহাবি জারির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বায়াত থেকেও জানা যায় যে, প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শর্ত।

সুরা আনফালের ৪৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের সতর্ক করে বলেছেন যে তারা যেন পরস্পর বিবাদে লিপ্ত না হয়, অন্যথায় তারা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তাদের নিজস্ব শক্তি বিলীন হয়ে যাবে। আজকের বিভক্ত পৃথিবীতে মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক দোষ খোঁজা বন্ধ করে ঐক্যের হাত বাড়ানো, যাতে শিষ্টাচার ও ন্যায়ের সীমা অক্ষুণ্ন থাকে।