শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

কানাডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

স্পোর্টস ডেস্ক

জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

কানাডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

মরক্কো ফুটবল দলের উল্লাস. Source: CAF Online

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর ম্যাচে কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মরক্কোর ফুটবলাররা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন। পুরো ম্যাচে কানাডাকে কোনো সুযোগ না দিয়েই বড় জয় তুলে নেয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এই জয়ের ফলে মরক্কো টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে পা রাখল এবং তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা আরও দীর্ঘ করল। মাঠে উপস্থিত হাজারো দর্শকের করতালির মধ্যে মরক্কোর ফুটবলাররা তাদের সেরা খেলাটি উপহার দেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। তবে শুরুর দিকে কোনো দলই গোলমুখ উন্মুক্ত করতে পারছিল না। মরক্কোর মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ইসমাইল সাইবারি খেলার প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই চোট মরক্কো শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হলেও বদলি হিসেবে নামা সুফিয়ান রাহিমি সেই অভাব বুঝতে দেননি। দুই দলের রক্ষণভাগই প্রথমার্ধে বেশ সতর্ক ছিল। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। বিরতির ঠিক আগে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং খেলোয়াড়দের ফাউল করার প্রবণতা বেড়ে যায়। রেফারি মাইকেল অলিভারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকবার হলুদ কার্ডের প্রয়োগ করতে হয়। কানাডার রিচি লারিয়া এবং জোনাথন ডেভিড হলুদ কার্ড দেখেন। অন্যদিকে মরক্কোর আশরাফ হাকিমিও বুকিংয়ের তালিকায় নাম লেখান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। মরক্কো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে এবং দ্রুতই তার ফল পায়। দলের তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির চমৎকার এক পাস থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে কানাডার জাল কাঁপান আজেদিন ওনাহি। এই গোলটি মরক্কো শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। পিছিয়ে পড়ে কানাডা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাজোন বুকাননের মাধ্যমে কয়েকটি আক্রমণ সাজায়। কিন্তু মরক্কোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তার সামনে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে মরক্কো ব্যবধান দ্বিগুণ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যভাগে দলের অন্যতম সেরা তারকা ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে বল পান ওনাহি। ঠান্ডা মাথায় কানাডার রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিগুণ ব্যবধানের গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কানাডা অলআউট খেলার কৌশল নেয়। কোচ জেসি মার্শ বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। সাইল লারিন এবং জোনাথন ওসোরিওকে মাঠে নামানো হয়। কিন্তু মরক্কোর পরিকল্পিত ডিফেন্স ভাঙা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। উল্টো অতিরিক্ত ফাউল করার খেসারত হিসেবে লারিনকেও হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

খেলার একদম শেষভাগে যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার অপেক্ষা, তখনই মরক্কো তাদের তৃতীয় গোলটি উদযাপন করে। যোগ করা সময়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে কানাডার জালে বল পাঠান সুফিয়ান রাহিমি। দিয়াজ এই ম্যাচে দুটি গোলে সহায়তা করে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। এই গোলের সাথে সাথেই কানাডার ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা শেষ হয়ে যায়। তিন শূন্য গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। এই হারের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই থমকে গেল। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী ফ্রান্সের, যারা অন্য ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।