শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

সালাহর পেনাল্টি কেন পেলেন না: ফিফার নিয়ম কী বলছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৮, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

সালাহর পেনাল্টি কেন পেলেন না: ফিফার নিয়ম কী বলছে

ফুটবল বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা বাতিলের ঘটনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টি না পাওয়ার বিষয়টি যা নিয়ে বর্তমানে নানা মহলে আলোচনা চলছে। ফিফার নিয়মের মারপ্যাচ সাধারণ দর্শকদের কাছে অনেক সময় জটিল মনে হলেও মূলত আইএফএবির রুল নাম্বার ১২ এর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। 

মোহাম্মদ সালাহর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের সাথে শারীরিক সংস্পর্শ বা কন্টাক্ট হওয়ার আগেই সালাহ বলের ওপর থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন যা পেনাল্টি না দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফিফার এই নিয়ম অনুযায়ী কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি বলের দখল হারিয়ে ফেলেন এবং তারপর তিনি ফাউলের শিকার হন তবে তা পেনাল্টি হিসেবে গণ্য হয় না যদি না সেই ফাউলটি অত্যন্ত বেপরোয়া বা রেকলেস ফাউল হয়। 

ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারি এই ঘটনাটিকে একটি সফট ট্যাকেল হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং তার ইন্টারপ্রিটেশনে এটি রেকলেস ফাউলের আওতাভুক্ত ছিল না বিধায় পেনাল্টি দেওয়া থেকে তিনি বিরত থেকেছেন। একই ধরনের ঘটনা এর আগে কঙ্গোর বিপক্ষে হ্যারিকেইনের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল যেখানে গোলকিপারের সাথে কন্টাক্ট হওয়ার আগেই হ্যারিকেইন তার বডি ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেছিলেন যা পেনাল্টি পাওয়ার নিয়মের পরিপন্থী। 

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি কেন এই ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেনি তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে ভিএআর শুধুমাত্র তখনই ইন্টারফেয়ার করে যখন কোনো অবভিয়াস এরর বা সুস্পষ্ট ভুল রেফারি করেন এবং এখানে অনফিল্ড রেফারি এবং ভিএআর টিমের মতে কোনো সুস্পষ্ট ভুলের সুযোগ ছিল না। মিশরের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হওয়ার ঘটনাটি নিয়েও দর্শকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কিন্তু ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে গোল হওয়ার আগের মুহূর্তে অন্য প্রান্তে ফাউল হওয়ার বিষয়টি ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী গোল বাতিল করা হয়েছে যা সাম্প্রতিক সময়ে চেলসি বনাম ফুলহ্যামের মতো বড় ম্যাচেও দেখা গেছে।

যদিও ফিফার এই জটিল নিয়মগুলো সবসময় ফুটবলীয় ইনসাফ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে কি না তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের অবকাশ রয়েছে তবে রেফারিরা তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলোই অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছেন। সবশেষে এটি বলা যায় যে ফুটবল মাঠের এই নিয়মগুলোর মারপ্যাচ অনেক সময় আবেগের জায়গা থেকে ভুল মনে হলেও টেকনিক্যাল দিক থেকে বিচার করলে তা অনেকটা আইনের কাঠামোর মধ্যেই পড়ে এবং এই বিতর্কগুলোই ফুটবল খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।