জুলাই ১২, ২০২৬, ১১:২২ এএম
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৭২তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
ঘটনার শুরুতে এমবোলো আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পড়ে যান। মাঠের রেফারি প্রথমে পারেদেসের বিরুদ্ধে ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে হলুদ কার্ড দেখান। এর পরপরই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর মাঠের রেফারিকে মনিটরে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, এমবোলোর পড়ে যাওয়ার মতো কোনো স্পষ্ট সংস্পর্শই ছিল না। বরং ভিএআর পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ফাউল আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজেই পড়ে গিয়েছিলেন।
এরপর রেফারি পারেদেসকে দেওয়া হলুদ কার্ড বাতিল করেন এবং এমবোলোকে ‘সিমুলেশন’ বা ডাইভ দেওয়ার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখান। প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড দেখা এমবোলোর এটি ছিল দ্বিতীয় সতর্কবার্তা। নিয়ম অনুযায়ী, দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এই কার্ডের ঘটনায় অনেকের প্রশ্ন ছিল, সাধারণত দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রে তো ভিএআর হস্তক্ষেপ করে না। তবে এর উত্তর রয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের বা আইএফএবি-এর সর্বশেষ সংশোধিত ভিএআর প্রটোকলে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখান, তাহলে ভিএআর সেই ভুল সংশোধনের জন্য মাঠের রেফারিকে রিভিউয়ের আহ্বান জানাতে পারে। এই ম্যাচে ঠিক সেটিই ঘটেছে।
আইএফএবি-এর আইন ১২ অনুযায়ী, সিমুলেশন বা অভিনয় অক্রীড়াসুলভ আচরণ হিসেবে বিবেচিত। সিমুলেশন প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। আধুনিক ফুটবলে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে ফিফা ও আইএফএবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এমবোলোর বিদায়ের পর ১০ জন নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন