বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
ফুটবল অঙ্গন

কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

নেশনস লিগে কোচের সাথে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার পর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে থাকার খবর জানার পর তিনি দল ছেড়ে চলে যান।

বেশ কয়েক দিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর রোনালদো নিজেই এক বিবৃতিতে তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি ভক্ত ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজ থেকেই নিজের ওপর জরিমানা আরোপের আহ্বান জানান। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি নিয়মিত ডাক পাওয়ার পরেও জাতীয় দলের কোনো অনুশীলন সেশন, ম্যাচ বা ফেডারেশনের কার্যক্রমে বিনা কারণে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাকে জরিমানার পাশাপাশি এক থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইনি বিশেষজ্ঞ ও ফিফার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী গঞ্জালো আলমেইদার মতে, গত মাসে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যত শুরু হয়ে গেছে। আলমেইদা জানান, শাস্তির বিষয়টি অনিবার্য মনে হলেও বেশ কিছু বিষয় রোনালদোর পক্ষে কাজ করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে রোনালদোকে তার মতামত জানানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলমেইদা এফপিএফ-এর ২৪৪ নম্বর ধারাটিও তুলে ধরেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়বস্তু স্বীকার করতে পারেন। যদি সেই স্বীকারोক্তি পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন হয় এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকে, তবে আর কোনো প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালানো হয় না এবং প্রযোজ্য শাস্তির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়। যেহেতু রোনালদো কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই নিজের আচরণের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন, তাই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তার শাস্তির মেয়াদ অর্ধেক কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন এই আইনি বিশেষজ্ঞ।