রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রবাসীদের আস্থা ও রিজার্ভের সারথি ইসলামী ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

প্রবাসীদের আস্থা ও রিজার্ভের সারথি ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রেখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে ব্যাংকটি অসামান্য অবদান রাখছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশির মধ্যে বড় একটি অংশ এই ব্যাংকটির ওপর আস্থা রাখছেন। 

তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী তাদের কঠোর পরিশ্রমের অর্থ দেশে পাঠাতে ইসলামী ব্যাংককেই প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই আস্থার মূলে রয়েছে স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ে প্রিয়জনের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা।

২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওই বছর দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৪ হাজার ২৬ বিলিয়ন টাকার সমান। 

এই বিশাল অংকের মধ্যে এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমেই এসেছে ৬ হাজার ২০৪ মিলিয়ন ডলার। টাকার হিসেবে যা প্রায় ৭৫৬ বিলিয়ন টাকা। বিপুল পরিমাণ এই রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক।গ্রাহকদের আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটিতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। 

দেশে পরিচালিত সব ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের প্রায় ৩৯ শতাংশই এখন এককভাবে ধারণ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। শরী’আহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং নিরাপত্তার কারণেই এই বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই বিশাল মূলধন ব্যাংকটিকে দেশের বড় বড় শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। 

বিশেষ করে দেশের সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যেও ব্যাংকটি নেতৃত্ব দিচ্ছে।কেবল বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই খাতেও ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যাংকটি বেকারত্ব হ্রাসে কাজ করছে। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প বা আরডিএস-এর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

এর ফলে গ্রামীণ জনপদে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ায় লেনদেনের গতিও বহুগুণ বেড়েছে। টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক আগামী দিনেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।