এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত উত্তজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চালান আটকে যাওয়ায় এই শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচামালের তীব্র অভাব দেখা দিলে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি বিভাগ ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে থাকে। রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা দেশের চাহিদার একটি অংশ পূরণ করে।
কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এই শোধনাগারের ওপর এসে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করে কোনো তেলের জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।
বর্তমানে তিনটি বড় চালান আটকে থাকায় কাঁচামালের মজুদ তলানিতে এসে ঠেকেছে।জ্বালানি বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি মার্চ মাসের শেষ দিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির মজুদ মাত্র ৩০ হাজার মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। এই পরিমাণ মজুদ দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় শোধনাগারটি বড়জোর এক সপ্তাহ সচল রাখা সম্ভব। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মুনীর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কাঁচামাল সরবরাহে ১০ থেকে ১২ দিনের একটি বড় গ্যাপ তৈরি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে নতুন চালান না পৌঁছালে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
মুনীর হোসেন চৌধুরী আরও জানান যে একই উৎস থেকে ভিন্ন বন্দর ব্যবহার করে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিকল্প রুট ব্যবহারের কারণে এবার পরিবহন ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পেমেন্টের ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থ গুনতে হতে পারে। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে খালাস করে রিফাইনারিতে নিতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। তাই শিপমেন্টটি সময়মতো পেলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদিও ইস্টার্ন রিফাইনারি সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে তবুও এতে দেশে বড় ধরনের তেলের সংকট হওয়ার সুযোগ কম। কারণ ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ জোগান দেয়। বাকি ৮৫ শতাংশ চাহিদা মেটানো হয় আমদানিকৃত পরিশোধিত তেলের মাধ্যমে। অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে এই মুহূর্তে ডিজেল ও অকটেনের মতো পরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে জরুরি। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে শুধু একটি পরিশোধনাগারের ওপর নির্ভর না করে তেলের উৎস বহুমুখী করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সরকার বর্তমানে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে যাতে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে এপ্রিলে তেলের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন