রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত হওয়ায় ফের ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন শুরু

জাতীয় ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত হওয়ায় ফের ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন শুরু

সচল হয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।

থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর মূল প্ল্যান্ট আবারও উৎপাদনে ফিরেছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শোধনাগারটির উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়।ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৮টায় প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। 

তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা একটি ট্যাংকার গত বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। 

পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাহাজটি থেকে লাইটারিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তেল শোধনাগারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইআরএল আংশিকভাবে চালু ছিল। পরে ১২ এপ্রিল থেকে মূল উৎপাদন ইউনিট ক্রুড ডিস্টলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শোধনাগারটির অন্যান্য ইউনিটও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়েছিল।ইআরএলে দৈনিক প্রায় চার হাজার টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেলের সর্বশেষ চালান এসেছিল। এরপর মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা শুরু হয় এবং এপ্রিল মাসে তা তীব্র আকার ধারণ করে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। বাংলাদেশ সাধারণত জি টু জি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব তেল আমদানি করে থাকে।

আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বেশ কিছু চালান বিলম্বে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। আমদানিকৃত এই তেল সাধারণত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ধাপে ধাপে শোধনাগারটির সব ইউনিটে উৎপাদন পুরোদমে শুরু হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।