শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
বিশ্ব অর্থনীতি

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তন ঠেকাতে উন্নত দেশগুলো বাজারে হস্তক্ষেপ ও শুল্কের মতো যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা একেবারেই টেকসই নয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘দ্য নিউ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ডিজঅর্ডার: ইমপ্লিকেশনস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, দীর্ঘ সময় পর একটি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উত্থান দেখা যাচ্ছে, যার মূল বৈশিষ্ট্য এশিয়ার দিকে অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবের স্থানান্তর। পণ্য বাণিজ্যে এশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার কারণে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উদ্বৃত্ত জমেছে। ফলে মূলধনের উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ায় সহায়তা বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য এখন আর শুধু পশ্চিমের ওপর নির্ভর করতে হয় না, বরং বিকল্প উৎস তৈরি হয়েছে এবং এটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।

বাণিজ্যের চিরপরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, আগে এশিয়ার অধিকাংশ দেশের বাণিজ্য পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তেল রপ্তানিকারক পশ্চিম এশীয় দেশসহ প্রায় সব এশীয় দেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার এশিয়ার মধ্যেই।

বর্তমানে বিশ্বের ১২০টি দেশের মধ্যে ৭০টির প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও গবেষণাপত্র প্রকাশে চীন বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সরকারি পর্যায়ে মূলধন স্থানান্তরের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীও এখন দেশটি। কিন্তু মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এতদিন বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য করা উন্নত দেশগুলো এই পরিবর্তনকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মোকাবিলা না করে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় দেশ নিজেদের বাজারকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে প্রবেশাধিকার সীমিত করছে এবং শুল্কের চাপে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে ও বিনিয়োগ করতে বাধ্য করছে, যা কোনোভাবেই টেকসই নয়।

বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে সিপিডি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও পড়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রধান স্বার্থ হলো নিজের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিশ্বজুড়ে নিজেদের মূল্যশৃঙ্খল (ভ্যালু চেইন) শক্তিশালী করা এবং এশিয়ায় তৈরি হওয়া নতুন সুযোগের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে শক্তভাবে যুক্ত করা। চীন ও ভারতের মতো দুই বড় অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিবেশী হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিকল্পনায় এই সুযোগ সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া ভারত ও চীনের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন তিনি।