সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বিএনপির অবস্থানে সাংবিধানিক সংকটের শঙ্কা ডাকসুর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

বিএনপির অবস্থানে সাংবিধানিক সংকটের শঙ্কা ডাকসুর

উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সাদিক কায়েম

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরত থাকাকে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ের অবজ্ঞা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডাকসু মনে করে, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত জুলাই সনদে তাদের দেওয়া অঙ্গীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং এটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।

ডাকসুর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনের নেতা সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‍‍`হ্যাঁ‍‍` ভোটের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। 

কিন্তু গণভোটের ফলাফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপি জনমতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেই জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ীই বিগত সরকারের পতন ঘটেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।

সাদিক কায়েম তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ৮ ধারা অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আইনি ও করণিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রয়েছে। ডাকসু সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই শপথ গ্রহণ না করলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কার, বিচার এবং এমনকি নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা একটি গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে।

বিবৃতিতে বিএনপির প্রতি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। ডাকসু মনে করিয়ে দিয়েছে যে, অতীতে যারাই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, ইতিহাস তাদের জন্য করুণ পরিণতি বয়ে এনেছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে বিএনপিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসুর এই কড়া অবস্থান নতুন সরকারের ওপর রাজপথের শক্তিগুলোর চাপের একটি বহিঃপ্রকাশ।