মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

৫ দশক পর কেন চন্দ্রাভিযানে নামল নাসা? জানুন বিস্তারিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

৫ দশক পর কেন চন্দ্রাভিযানে নামল নাসা? জানুন বিস্তারিত

নাসার নতুন চন্দ্রাভিযান

আমেরিকার অ্যাপোলো মিশনের প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদের দেশে মানুষ পাঠিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এবারের এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে আর্টেমিস-২। যদিও এই মিশনের চার নভোচারী এখনই সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন না, তবে তাদের এই ১০ দিনের ঐতিহাসিক যাত্রা ভবিষ্যতে মানুষের স্থায়ীভাবে চাঁদে বসবাসের পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। 

মূলত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য চন্দ্রপৃষ্ঠ উন্মুক্ত করতেই এই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই অভিযানের একটি বিশেষ ও রোমাঞ্চকর দিক হলো, নভোচারীরা চাঁদের সেই অংশটি থেকে ৬ হাজার ৪০০ মাইল বা প্রায় ১০ হাজার ২৯৯ কিলোমিটার দূরে ভ্রমণ করবেন, যা পৃথিবী থেকে কখনো সরাসরি দেখা যায় না। 

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ ভ্রমণের তিন ঘণ্টার একটি বিশেষ সময়কালে নভোচারীরা চাঁদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য যেমন বিশাল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ এবং প্রাচীন লাভার প্রবাহ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করবেন। 

পাশাপাশি তাঁরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে দুর্লভ সব ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করবেন।নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে মানুষের অবতরণ ও সেখানে দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া গভীর মহাকাশ ভ্রমণে মানুষের শরীর ও মনের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে, তা বুঝতেও বড় ধরনের সহায়তা করবে এই মিশন।

মূলত ভবিষ্যতে পৃথিবী থেকে আরও দূরে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই নভোচারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো বর্তমান মিশনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।যদি আর্টেমিস-২ মিশনের এই চার নভোচারী সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন, তবে নাসা তাদের পরবর্তী বড় পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হবে। 

সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে আর্টেমিস-৪ এবং আর্টেমিস-৫ মিশনের মাধ্যমে পুনরায় চাঁদের মাটিতে মানুষের সশরীরে পদচিহ্ন নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে নাসার এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মিশনের সফলতা মহাকাশ পর্যটনকেও নতুন মাত্রা দান করতে পারে।