মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
মহাকাশ গবেষণা

চাঁদের গুহায় অভিযান নাসার নতুন গবেষণায় লাভা টানেল অনুসন্ধান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

চাঁদের গুহায় অভিযান নাসার নতুন গবেষণায় লাভা টানেল অনুসন্ধান

চাঁদের পৃষ্ঠের নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন লাভা টানেল ও বিশালাকার গুহার সন্ধান পেতে সরাসরি অভিযানে নামছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির প্রিজম কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন ও সমর্থন পেয়েছে ‘জিমলি’ নামের একটি বিশেষ অনুসন্ধান মিশন। এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য ম্যারিয়াস হিলস পিট।

চাঁদের প্রাচীন আগ্নেয়গিরি বলয়ে অবস্থিত এই গর্তটি লম্বায় প্রায় ৯০ মিটার, চওড়ায় ৬৫ মিটার এবং গভীরতায় প্রায় ৩৪ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। বেশ কয়েক বছর আগে উপগ্রহের চিত্রে এই খাদের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও পাথুরে মেঝের নিচে কত দূর পর্যন্ত ফাঁপা পথ বিস্তৃত রয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এবার স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সরঞ্জামের মাধ্যমে সরাসরি সেই রহস্য উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর ডেস্কে আসা তথ্যে।

কয়েক শ কোটি বছর আগে লাভা প্রবাহ থেমে গিয়ে এসব সুরঙ্গ তৈরি হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় চাঁদের মাটিতে নামানো হবে বিশেষ গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার, ভূকম্পন মাপার সিসমোমিটার এবং মহাকর্ষীয় তারতম্য পরিমাপের যন্ত্র। সঙ্গে যুক্ত থাকবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, যা একই সঙ্গে খাদের খাড়া দেওয়াল এবং চারপাশের ভূদৃশ্যের অনুপুঙ্খ চিত্র তুলে আনবে। সংগৃহীত সব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করবেন ভেতরের লাভা টানেলগুলো এখনো অখণ্ড অবস্থায় টিকে আছে কি না।

যদি এই সুরঙ্গগুলো অক্ষত থাকে, তবে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি গড়তে তা ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ, ক্ষতিকর সৌরঝড়, অনবরত উল্কাপাত এবং চরম তাপমাত্রার ওঠানামা থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি চাঁদের ভূ-তাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাসও মিলবে এই মাটির নিচের পাথর পরীক্ষায়।