এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
মিয়ানমারে দীর্ঘ পাঁচ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সামরিক শাসনের পর অবশেষে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বিতর্কিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট ছিলেন।
ক্ষমতা দখলের পর তিনি এক বছরের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে তার সময় লেগেছে পুরো পাঁচ বছর। মিয়ানমারের নতুন গঠিত সংসদ তাকে এই শীর্ষ পদে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে যা দেশটিতে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই পরিবর্তন আসলে নামমাত্র একটি বেসামরিক শাসনের মোড়ক মাত্র। মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালেও রাষ্ট্রযন্ত্রে তার অনুগতদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।
বিশেষ করে নতুন সংসদে সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত কোটা ও বিশেষ আসন ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়াও তিনি একটি শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন যার কাছে দেশের সামরিক ও বেসামরিক সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এর মাধ্যমে হ্লাইং নিশ্চিত করেছেন যে সামরিক পোশাক ছাড়লেও তার রাজনৈতিক প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যেন বিন্দুমাত্র হ্রাস না পায়।
জান্তা সরকারের এই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। অং সান সূচির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষের ওপর গত কয়েক বছর ধরে নির্বিচারে দমনপীড়ন চালিয়েছে সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে দেশটিতে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৪০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দেশের একটি বড় অংশ বর্তমানে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বড় শহরগুলো নিজেদের কব্জায় রাখতে বিমান হামলা ও কঠোর সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে জান্তা বাহিনী।কারামুক্ত এক তরুণ আন্দোলনকর্মী কিয়াও উইনের অভিজ্ঞতায় মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। ২০২২ সালে বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তার মতো অসংখ্য তরুণের গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে এবং তারা জীবিকার তাগিদে দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। জান্তা প্রধানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই অভিষেক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন