রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশুটি আইসিইউতে, অবস্থা সংকটাপন্ন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশুটি আইসিইউতে, অবস্থা সংকটাপন্ন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে আহত সাত বছর বয়সী শিশু আফনান এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজারের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বর্তমানে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটির নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন যে শিশুটির মাথায় গুলি লেগেছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

রোববার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তির পর এখনো তার সিটি স্ক্যান করা সম্ভব হয়নি। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করবেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে রোববার সকালে শিশুটির মৃত্যুর একটি খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র শুরুতে শিশুটির মৃত্যুর কথা জানালেও পরে তা সংশোধন করেন। জানা গেছে যে শিশুটির বাবা-মা ঘরের ভেতরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ভেবেছিলেন সে মারা গেছে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে শিশুটি এখনো জীবিত রয়েছে।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে শনিবার রাত থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। রোববার সকালে গোলাগুলি আরও বেড়ে গেলে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার একটি বসতঘরে এসে লাগে।

জসিম উদ্দিনের মেয়ে শিশু আফনান তখন ঘরের ভেতরেই ছিল এবং সরাসরি তার মাথায় গুলি লাগে। বর্তমানে শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানিয়েছেন যে শুরুতে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

তবে শিশুটির জীবন বাঁচাতে এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মিয়ানমারের ভেতরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত গোলাগুলি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সবার নজর এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে যেখানে সাত বছরের শিশু আফনান বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।