এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইতিবাচক মূল্যায়ন করেন।
অনুষ্ঠানে পল কাপুর স্পষ্ট করে জানান যে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে ঢাকার ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ নেই।
দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষিপণ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রযুক্তি স্বাধীনভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত ও সুরক্ষিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এ সময় পল কাপুর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ও সাধারণ জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও এই অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ কূটনীতিক, মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন নিয়েও আলোকপাত করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক আয়োজনে উপস্থিত অতিথিরা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও শিল্প খাতের জন্য নতুন মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন