মে ১৫, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে (ডিওই) এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করেন দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। অনুষ্ঠানে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্য ও টেকসই সরবরাহ-ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।
চুক্তির আওতায় তেল, গ্যাস, ভূ-তাপীয় জ্বালানি ও জৈব জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি এই উদ্যোগে সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই চুক্তি বাংলাদেশকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত সমর্থন দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তির ফলে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারিগরি সহায়তার পথও উন্মুক্ত হলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন