মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২৬, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরাজয় মেনে না নিয়ে দলটি এবার আইনি পথে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, জনগণের রায়কে প্রভাবিত করে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে।

ভোটে অনিয়মের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দলটি।গত রোববার ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, নির্বাচনে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তার সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

 ইভিএমের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।ইভিএম নিয়ে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সংশয় ফের প্রকাশ্যে এল।

দলীয় সূত্রের খবর, অন্তত ৫০টি আসনে নির্বাচনী আবেদন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোট গণনায় গড়মিল, ইভিএমের তথ্যের গরমিল এবং সিল করা নথির নম্বর নিয়ে তৃণমূলের আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ শুরু করেছেন। আইনি নথিপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা এই অভিজ্ঞ আইনজীবী দলটির আইনি কৌশলের মূল কান্ডারি।তবে এই পথে দলের ভেতর থেকেও কিছুটা বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, অনেক পরাজিত প্রার্থী আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার জন্য খুব একটা আগ্রহী নন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের সুবিধা ভোগ করার পর এখন বিপদের সময় অনেকে দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন। এতে আইনি কৌশল নির্ধারণে কিছুটা বিপাকে পড়েছে দলটির নেতৃত্ব।তরুণ নেতৃত্ব অবশ্য এই আইনি লড়াইকে ভবিষ্যতের পুঁজি করতে চাইছে।

দলটির তরুণ অংশ এই লড়াইকে রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে। আইনি নথি প্রস্তুত করা এবং জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজও দ্রুত শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্যমতে, জনগণের রায়কে অন্য খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। এখন আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করাই তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে হারলেও তৃণমূল এখনই প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে নারাজ। আদালত ও জনমত—উভয় ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কৌশলে অটল দলটি। তবে অভিযোগের পাহাড় প্রমাণ করার ভার এখন তাদেরই ওপর।