রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
চীনের জাতীয় সম্পদ

পান্ডার একমাত্র মালিক চীন: বিক্রি না করে দেয় ঋণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

পান্ডার একমাত্র মালিক চীন: বিক্রি না করে দেয় ঋণ

বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী জায়ান্ট পান্ডার একমাত্র বৈধ মালিক চীন সরকার। অমূল্য এই প্রাণীর কোনো বাণিজ্যিক কেনাবেচা হয় না। কোনো দেশ বা ব্যক্তি চাইলেও এটি সরাসরি কিনতে পারে না। চীন সরকার অন্য কোনো দেশকে এই প্রাণী উপহার হিসেবে দেয় না, বরং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কেবল ভাড়ায় দেয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনের এই চর্চাকে বলা হয় পান্ডা কূটনীতি। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী ছেংদুতে গড়ে তোলা হয়েছে পান্ডার জন্য বিশেষায়িত কেন্দ্র। প্রায় ৩০০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারের বেশি দর্শনার্থী কেন্দ্রটিতে আসেন, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ভিড় সবচেয়ে বেশি বাড়ে। বছরে কোটি কোটি পর্যটক এখানে সমবেত হন।

পান্ডা মূলত বাঁশ খেয়ে বেঁচে থাকে এবং একে পৃথিবীর অন্যতম অলস স্বভাবের প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় তারা আহার করে এবং বাকি সময়টা ঘুমিয়ে কাটায়। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক পান্ডা প্রতিদিন প্রায় ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ আহার করতে পারে। এদের জীবনধারণের জন্য ঘন বনাঞ্চল ও শীতল আবহাওয়ার পরিবেশ অপরিহার্য।

গত চার দশকে কঠোর সংরক্ষণ নীতির ফলে প্রাণীটির সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৮০ সালে বন্য পরিবেশে পান্ডার সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজার ১০০। দীর্ঘদিনের সুরক্ষা ও প্রজনন কার্যক্রমের সুবাদে বর্তমানে বন্য অবস্থায় এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৬৪টিতে। এছাড়া বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে আরও সাত শতাধিক পান্ডা লালন-পালন করা হচ্ছে। এটিকে নিজেদের অন্যতম জাতীয় সম্পদ ও গর্বের প্রতীক মনে করে বেইজিং।

পরিবেশ গবেষকদের মতে, পান্ডা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি বড় সূচক। পান্ডার অস্তিত্ব টিকে থাকলে বাঁশের বন সতেজ থাকে, যার ওপর ভিত্তি করে বনের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবনও সুরক্ষিত হয়।

আইনগতভাবে পান্ডার কোনো ধরনের বাণিজ্যিক হস্তান্তর বা বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে অন্য দেশের চিড়িয়াখানাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পান্ডা ভাড়া নিতে পারে। চোরাচালান বা অবৈধ বাজারে কেনাবেচার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চীনে পান্ডা শিকার বা অবৈধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে।