সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
বাংলাদেশের নদী অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। রোববার দুপুরে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পানি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ভূখণ্ড এবং এই জনপদের অর্থনীতি, কৃষি ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য ও কোটি মানুষের সার্বিক জীবিকা সরাসরি নদীগুলোর সাথে জড়িত।
তাই নদী সুরক্ষা স্রেফ কোনো সাধারণ পরিবেশগত এজেন্ডা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার এক মৌলিক প্রশ্ন। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে আন্তর্জাতিক আইন ও সমতার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি সম্পদ কোনো একক রাষ্ট্রের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। উজান ও ভাটি—উভয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সমতা, অভিন্ন স্বার্থ এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না করার নীতির ভিত্তিতেই সমন্বিত অববাহিকা ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশ সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে সেই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সমতা।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ অবসানের প্রেক্ষাপটে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পানি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করে কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। একই সাথে তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অঙ্গনে নিজেদের যৌক্তিক অবস্থান ও জোরালো দাবি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখবে। এই লক্ষ্যে অববাহিকাভিত্তিক নিয়মিত জলবিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, আগাম বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার বিস্তার ও যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা বৃদ্ধি করার তাগিদ দেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ নদ-নদী রক্ষা ও দখল-দূষণ প্রতিরোধে আপসহীন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীকে চিরতরে বাঁচাতে হলে কৃত্রিম দখল ও দূষণ বন্ধ করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া বিকল্প নেই। নদী পুনরুদ্ধারের মতো জাতীয় কর্মযজ্ঞে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাবে বাংলাদেশ যেহেতু মারাত্মক পানি ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় পরিসরে নদী অধিকার প্রশ্নে দেশের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পানি বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। এছাড়া বিশেষ উপস্থিতি ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান খোকন। সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা দেশের নদী অধিকার রক্ষায় করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন