রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
অন্তঃসত্ত্বার ওপর হামলা

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি: গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি: গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় হাসপাতালে নেওয়ার পর গর্ভপাত ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জন্ম নেওয়া নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্বামী ও ষাটোর্ধ্ব বাবাও গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও শ্বশুরকে নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বেতমোর গ্রাম থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সোহাগ (২০), মামুন (২৩) ও শাওন সিকদার (২২) নামের তিন যুবক সড়কে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। অটোরিকশার পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াতে বলায় তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তর্কের একপর্যায়ে ওই তিন যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে চালক ও অটোরিকশায় থাকা স্বামী এবং বাবার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সঙ্গে থাকা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী তার স্বামী ও বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার তলপেটে সজোরে লাথি মারা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারীর গর্ভপাত ঘটে এবং জন্ম নেওয়া অপরিণত নবজাতকটি কিছুক্ষণ পরই মারা যায়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. এহসান জানান, পেটে তীব্র আঘাতজনিত কারণে রোগীর মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয় এবং গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় এবং সময়মতো নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত তিন যুবকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।