শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড় শুরু, ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৫ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড় শুরু, ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৫ হাজার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে চলা এই অভিযানে চার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ পাঁচ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আটক চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হলেন পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার।

ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই পুরো রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লি পৌঁছানোর সাথে সাথেই দলটির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। এছাড়া বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বিকেল চারটার দিকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তার দলীয় সতীর্থদের হরিয়ানার সীমান্তবর্তী উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ আগে, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশের হাতে আটক হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এদিকে আগের রাত থেকে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক শিখ উপাসনালয় বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে তারা ব্যারিকেড ভেঙে যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছামাত্রই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে রানওয়েতে থাকা উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই নাটকীয়ভাবে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ভারতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে হরিয়ানার গুরুগ্রামের নিজ বাসা থেকে পুলিশ আটক করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিক্ষোভের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ফটক থেকে কয়েকজন আইনজীবীকেও সাময়িক আটক করেছিল পুলিশ, তবে পরে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে যন্তর মন্তর এলাকা কার্যত দুর্গে পরিণত হলে দুপুরের দিকে নতুন কৌশল নেন আন্দোলনকারীরা। বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা আন্দোলনকারীদের রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে কিছুটা দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই নেতাকর্মীদের ঘিরে ফেলে আটক করে পুলিশ।