রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আরও দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত: রুবিও

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম

আরও দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত: রুবিও

ছবি - সংগৃহীত

মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছেন, আরও বেশিসংখ্যক দেশ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই দেশগুলো এখনই এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে ইসরায়েলে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় রুবিও এই মন্তব্য করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজা যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাপ্তি ঘটলে তা আরও অনেক দেশকে তথাকথিত 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এ যোগ দিতে উৎসাহিত করবে। এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অধীনেই ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মরক্কোর মতো কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।ইসরায়েল সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক দেশ আছে যারা এই চুক্তিতে যোগ দিতে চায়।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘আপনি চাইলে হয়তো এখনই কয়েকটি দেশকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারেন, কিন্তু আমরা এটি নিয়ে একটি বড় কাজ করতে চাই এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’ গাজা যুদ্ধবিরতির গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের ফলস্বরূপ সেই কাঙ্ক্ষিত বড় চুক্তিটি ঘটতে পারে। তবে মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত এমন কোনো দেশের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেছেন, দেশগুলোকে প্রথমে তাদের অভ্যন্তরীণ জনসাধারণের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে এবং জনমত প্রস্তুত করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে সৌদি আরবের নামটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসলামের দুটি পবিত্রতম স্থান মক্কা ও মদিনা সৌদি আরবে অবস্থিত হওয়ায় রিয়াদের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হলে উপসাগরীয় দেশটি সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয়েই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখলেও সৌদি আরব শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলেছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দিকে નક્কর অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এটি এমন একটি শর্ত, যা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই জোরালোভাবে বিরোধিতা করে আসছেন।