সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে উঁচু সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ইরেবাস থেকে প্রতিদিন নির্গত হচ্ছে মূল্যবান সোনা ও খনিজ পদার্থ।
বরফের নিচে ঢাকা থাকলেও এই আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয়।
ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, মাউন্ট ইরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম ওজনের সোনা বের হয়ে আসছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে যার আর্থিক মূল্য প্রায় ছয় হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত লাখ টাকারও বেশি। গ্যাসের তীব্র চাপে স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকারে লাভা স্রোতের সাথে সোনা উড়ে এলেও ফুটন্ত লাভার তাপমাত্রার কারণে তা সংগ্রহ করা অসম্ভব। সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত এই পর্বতের উচ্চতা তিন হাজার ৭৯৪ মিটার। ১৮৪১ সালে ব্রিটিশ নৌ অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন স্যার জেমস ক্লার্ক রস এই পর্বত আবিষ্কার করেন। রস দ্বীপে মাউন্ট ইরেবাস ছাড়াও আরও দুটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে চায়না পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় প্রকাশিত নতুন ডিজিটাল আর্কাইভে অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মোট ২০৭টি আগ্নেয়গিরি শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের এক সমীক্ষায় সেখানে ১৩৮টি আগ্নেয়গিরির সন্ধান পাওয়া যায়, যার মধ্যে সক্রিয় ছিল প্রায় নয়টি। বরফের পুরু চাদরে ঢাকা থাকলেও ইরেবাসের অভ্যন্তরে মাটির গভীরে ফুটন্ত লাভার একটি হ্রদ রয়েছে। লাভা নির্গমনের মুখগুলো বরফে ঢাকা থাকায় যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা করছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
আগ্নেয়গিরিটির বিভিন্ন গুহার ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অথচ বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে মাইনাস ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। এই চরম তাপমাত্রাগত পার্থক্যের মাঝে প্রায় ৩০ মিটার উঁচু একটি প্রাকৃতিক চিমনি তৈরি হয়েছে।
চরম বৈরী পরিবেশের মধ্যেও ইরেবাসের ভেতরের গুহাগুলোতে এক অনন্য বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা সেখানে সূর্যালোক ছাড়াই বেঁচে থাকা বিশেষ ছত্রাক, নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া এবং এমন কিছু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণের সন্ধান পেয়েছেন যা আগে পৃথিবীতে দেখা যায়নি। এসব অজানা জৈবিক তথ্য উন্মোচনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন