ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:০২ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় বহাল রেখেছেন আদালত। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় দেন।
এই আদেশের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এই রায়কে জনগণের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনগণ বনাম ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপীদের ফাইটে বাংলাদেশের জনগণের বিজয় হয়েছে।তার এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
হাসনাত মূলত মুন্সীর বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপির অভিযোগটি আইনিভাবে প্রমাণিত হওয়াকেই ‘ব্যাংক ডাকাতদের’ পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঋণখেলাপির অভিযোগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই ইসিতে মুন্সীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে আবেদন করেছিলেন।
পরে মুন্সী প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। সর্বশেষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেও নিজের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হলেন বিএনপির এই হেভিওয়েট নেতা। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহর করা অভিযোগটিই আইনিভাবে চূড়ান্ত বৈধতা পেল।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে এই রায় একটি বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহ শুরু থেকেই স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী ছিটকে পড়ায় আসনটিতে এখন হাসনাত আবদুল্লাহর অবস্থান আরও মজবুত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। হাসনাতের এই মন্তব্য এবং আদালতের রায়— উভয়ই এখন দেবীদ্বারের নির্বাচনী আলোচনার প্রধান উপজীব্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন