রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগ

সংসদ অধিবেশনে বিল পাস

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’ এখন স্থায়ী আইনে পরিণত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত আইনি ভিত্তি পেল। বেলা সোয়া ১২টার দিকে সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হলে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। 

এর ফলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধই থাকছে।আজ বুধবার বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। 

অধিবেশনের একাদশতম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় নেতা এটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দাবি করেন। 

তবে স্পিকার জানান যে, আপত্তির নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ায় এ পর্যায়ে আর আলোচনার সুযোগ নেই। এরপর বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।এর আগে ২০২৫ সালের ১১ মে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। 

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে দলটিকে নিষিদ্ধ করার সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটিই আজ সংসদে পাস হওয়া বিলের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ আইনে রূপ নিল। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই আইনের অধীনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবিরোধী বিল ছাড়াও আজ সংসদ অধিবেশনে সরকারি হিসাব নিরীক্ষাসহ আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সংসদের বিরতিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, এখন পর্যন্ত ৪৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশ সুরাহার অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে আগামী শুক্রবারও সংসদ অধিবেশন চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধিবেশন চলাকালে সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গোলযোগ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সংসদের কারিগরি ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনায় যারা গাফিলতি করেছে, তাদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই আইনসভার প্রতিটি কার্যক্রম যেন নির্ভুল হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজকের বিল পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি একটি স্থায়ী রূপ লাভ করল।