সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢামেকে চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

ঢামেকে চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

ঢামেকে জরুরি সেবা বন্ধ

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বিকেলে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে জরুরি বিভাগের সকল চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। 

এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জরুরি বিভাগে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সূচনা হয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে একটি ঔষধ লিখে দেন। তবে ওই নির্দিষ্ট ঔষধটি হাসপাতালের ভেতরে সরবরাহ না থাকায় তাকে বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বাইরের কয়েকটি ফার্মেসিতে ঔষধটি খুঁজে না পেয়ে তার কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে পুনরায় জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন।

এ সময় ঔষধ পরিবর্তন করা নিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, ঔষধ পরিবর্তনের অনুরোধ জানালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা ওই শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরাই প্রথমে উত্তেজিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অবিলম্বে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তুলে তাৎক্ষণিক কর্মবিরতি ও জরুরি সেবা বন্ধের ডাক দেন।

জরুরি সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে চিকিৎসকদের দাবি, হামলাকারীদের বিচার এবং শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেবায় ফিরবেন না।