মে ৪, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৯ জন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভসহ মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকালে হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনে এনএসআই ও শাহবাগ থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন নারী রয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম জানান, ঢামেকে দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এই চক্রটি নানান কৌশলে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিত এবং তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।
সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পর নিশ্চিত হয়ে আজ সকালে এনএসআই ও পুলিশ এই অভিযান চালায়।আটক ৪৫ জনের মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালে তাঁদের ভিজিটের জন্য সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু আজ তাঁরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হাসপাতালে প্রবেশ করায় তাঁদের আটক করা হয়। আটককৃতদের শাহবাগ থানায় নেওয়ার পর রমনা বিভাগের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।
রিপ্রেজেন্টেটিভদের আটকের খবর শুনে শাহবাগ থানার সামনে তাঁদের শতাধিক সহকর্মী ও কোম্পানির কর্মকর্তারা জড়ো হন। তাঁরা তাঁদের সহকর্মীদের ছাড়ানোর জন্য জোর তদবির চালান। ফার্মাসিউটিক্যালস্ রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব এই আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাঁদের সহকর্মীরা ভিজিটে গিয়েছিলেন।
সাধারণত দেখা যায়, রিপ্রেজেন্টেটিভরা নির্ধারিত সময়ের বাইরেও হাসপাতালের ওয়ার্ড এবং চিকিৎসকদের রুমে অবস্থান করেন। অনেক সময় রোগীদের প্রেসক্রিপশন টেনে নিয়ে ছবি তুলতেও তাঁদের দেখা যায়। ফারিয়া সভাপতি জানান, চিকিৎসকরা ডাকলে তাঁদের রুমে যেতে হয়, তবে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন