রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাতসকালে ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কারে জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

সাতসকালে ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কারে জামায়াত আমির

রাস্তা পরিষ্কার করছেন জামায়াত আমির

রাজধানীর রাস্তায় সাতসকালে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা রাজধানীর মনিপুর এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাকে রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে জামায়াত আমিরকে অত্যন্ত সাধারণ বেশে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ফজরের নামাজের পর জামায়াত আমির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনিপুর এলাকার সড়কে নেমে পড়েন। তিনি নিজে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা সেই আবর্জনা পলিথিনে সংগ্রহ করেন। 

প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে তিনি এই প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকেও ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের ভেতরকার সব ধরনের জঞ্জাল ও আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, তবে পুরো দেশ এমনিতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি দেশের মানুষের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জুলাই বিপ্লবের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান না এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধী দলীয় প্রধান হতে পারতাম না। আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদে জুলাইয়ের চেতনাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা পেয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিন দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদলীয় নেতার এই রাজপথের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার একটি কৌশল।