রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হবে না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হবে না

বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ এবং জনগণের দেওয়া রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার চেষ্টা করলে তার পরিণাম কখনো শুভ হবে না। ১১ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীসহ শরীক দলগুলোর কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আজহারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব এ দেশের মানুষকে নতুন জীবন দান করেছে এবং এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল পুরোনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে একটি ন্যায়ভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা। একদল ব্যক্তিকে সরিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসানো এই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল না বরং জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল মূল আকাঙ্ক্ষা।আজহারুল ইসলাম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা মানে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। 

তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের রায় অবজ্ঞা করার মাধ্যমে সরকার পুনরায় সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে কেউ সফল হতে পারেনি। তাই সময় থাকতে জনমত মেনে নিয়ে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে বিএনপির এখন সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। 

তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক, সেগুলো বিএনপির কাছে প্রিয় হলেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো তাদের কাছে অপছন্দনীয়। মামুনুল হক দাবি করেন, জনরায়কে যদি হাইকোর্ট দেখানো হয়, তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ রাজপথে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে। তিনি সংসদ এবং রাজপথ—উভয় জায়গাতেই সরকারকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদেরসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। 

মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, বিজয়নগর ও কাকরাইল অতিক্রম করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজকের এই সমাবেশ থেকে জোটের পক্ষ থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।