মে ২৭, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদত, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব এবং এটি ইসলামের প্রতীকী বিধানাবলির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি এই ত্যাগ স্বীকার না করে তবে তার জন্য কঠিন সতর্কবার্তা রয়েছে।
পশু কোরবানির পর মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুন্দর নিয়ম রয়েছে।ইসলামের সুমহান আদর্শ অনুসারে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির পশুর গোশত ভাগ করার সঠিক পদ্ধতি বলে দিয়েছেন।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি কোরবানির মাংসের একভাগ নিজের পরিবারের জন্য রাখতেন, একভাগ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দিতেন এবং অবশিষ্ট একভাগ গরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করতেন। অন্যদিকে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বর্ণনা থেকেও কোরবানির গোশত সমভাবে তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, একভাগ প্রিয়জনদের খাওয়ানো এবং একভাগ ফকির-মিসকিনকে দেওয়ার নিয়ম জানা যায়।
মাংস আত্মীয় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ না করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।আল্লাহর প্রতি শর্তহীন আনুগত্য, আত্মত্যাগ এবং অহংকারমুক্ত অন্তর গড়ে তোলাই এই ইবাদতের মূল শিক্ষা।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মানুষের ভেতরের তাকওয়া বা খোদাভীতিই তাঁর দরবারে কবুল হয়। তাই সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মাংসের সঠিক বণ্টন সম্পন্ন করা প্রতিটি মুসলিমের প্রধান দায়িত্ব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন