মে ২৭, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু জবাইয়ের পর মাংস কাটা, ভাগ করা ও বিতরণকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত সামাজিক রীতি দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বহুল আলোচিত বিষয় হলো কোরবানির মাংস তিন ভাগে সমানভাবে বণ্টনের প্রথা। অনেকের মনেই এই সাধারণ প্রশ্নটি জাগে যে মাংস এভাবে তিন ভাগ করে বিতরণ না করলে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো গুনাহ হবে কি না।
আলেম ও ধর্মীয় গবেষকদের মতে, এটি উত্তম আমল হলেও কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুফতি আনিসুর রহমান সিকদার এই বিষয়ে জানান, কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করার বিষয়টি সরাসরি হাদিস দ্বারা সমর্থিত এবং এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার আমল হিসেবে বিবেচিত।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি চান তবে পুরো মাংস নিজের পরিবারের জন্যও রেখে দিতে পারেন, আবার চাইলে সম্পূর্ণটাই দরিদ্রদের মাঝে দান করতে পারেন।
পবিত্র কোরআনের সুরা হজে বলা হয়েছে যে তোমরা নিজেরা কোরবানির মাংস থেকে খাও এবং যারা মানুষের কাছে হাত পাতে না এমন অভাবী ও চেয়ে বেড়ানো মানুষদের খাওয়াও। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের পরিবার, আত্মীয় ও দরিদ্রদের মাঝে তিন ভাগে মাংস বণ্টন করতেন বলেই সমাজে এই নিয়মটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।বাংলাদেশের অনেক এলাকায় ‘সামাজিক ভাগ’ নামে একটি বিশেষ প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
এই ব্যবস্থায় কোরবানিদাতারা মাংসের একটি নির্দিষ্ট অংশ সমাজের সাধারণ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে আলাদা সংগ্রহস্থলে জমা দিয়ে থাকেন। গবেষকেরা বলছেন যে এই সামাজিক বণ্টন স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বেচ্ছায় হলে তা অবশ্যই একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু কোনো এলাকায় যদি স্থানীয় সমাজ বা গ্রামের মাতব্বররা জোর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস দিতে কোরবানিদাতাকে বাধ্য করেন, তবে তা ইসলামের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া প্রকাশ করা, কোনো সামাজিক লোকদেখানো বাধ্যবাধকতা পূরণ করা নয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন