শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,
বিশ্বকাপ ফুটবল

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

জুলাই ৬, ২০২৬, ০৪:৩০ এএম

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

ছবি - সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে দুই-এক গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল সেলেসাওদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। খেলার একেবারে শেষ ভাগে এসে এই তারকা স্ট্রাইকার পরপর দুটি গোল করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ব্রাজিলের জন্য এটি আরও একটি বিশ্বকাপের হতাশার সমাপ্তি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ব্যর্থতার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হলো। এখন পর্যন্ত এই দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বে ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনো নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি ব্রাজিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে লড়াই জমে ওঠে। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে ব্রুনো গিমারাইস গোল করতে ব্যর্থ হন। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেই শট ঠেকিয়ে দিলে সেলেসাওরা মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে কার্লো আনচেলত্তি দলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে নেইমার ও এনড্রিককে মাঠে নামান। বদলি হিসেবে নেমেই এনড্রিক গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। উল্টো নরওয়ের জমাট রক্ষণভাগ বারবার ব্রাজিলের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল এবং নরওয়ের হালান্ডের মধ্যকার লড়াইটি ছিল চোখে পড়ার মতো। বারবার আক্রমণ করেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

খেলার ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস স্কেলডেরআপের সহায়তায় দুর্দান্ত এক হেডারে প্রথম গোল করে হালান্ড দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৯০ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা সাতে পৌঁছাল এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হতাশাগ্রস্ত নেইমার নরওয়ের মার্টিন ওডেগার্ডকে লাথি মেরে হলুদ কার্ড দেখেন এবং ভিনিসিয়ুস লাইন্সম্যানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে ১০ মিনিটের মাথায় লিও ওস্টিগার্ডের একটি ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নেইমার সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে নরওয়ে ছিল অনেক এগিয়ে। তাদের পায়ে বল ছিল ৬৬ শতাংশ সময়, যেখানে ব্রাজিল মাত্র ৩৪ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পেরেছে। নরওয়ের খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে ৬৫৩টি পাস আদানপ্রদান করেছেন, যার নির্ভুলতার হার ছিল ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাজিলের ৩১৩টি পাসের বিপরীতে এটি ছিল প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ম্যাচ শেষে নরওয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আনন্দাশ্রু আর গ্যালারিতে ব্রাজিলিয়ানদের বিষণ্ণতা পুরো স্টেডিয়ামের পরিবেশকে ভারী করে তোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ড। ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিতভাবেই চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হবে।