জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:২২ এএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে এতটা উত্তেজনায় ঠাসা হতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি কেউই। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সান্ত্বনার লড়াইটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ১০ গোলের এক মহাকাব্যিক থ্রিলারে। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ইংলিশদের সেরা সাফল্য।
বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি করে গোল করেছেন জুড বেলিংহাম, এজেরি কনসা ও ডেক্লান রাইস।
দল হারলেও জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। লিওনেল মেসির ২১ গোলকে পেছনে ফেলে ২২ গোল নিয়ে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এই ফরাসি তারকা। শুধু তাই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়েও তিনি অনেকটা এগিয়ে গেছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফরাসি রক্ষণকে ভড়কে দিয়ে প্রথমার্ধেই রীতিমতো গোল উৎসবে মেতে উঠেছিল তারা। মাত্র ৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের নেওয়া শটে ১-০ লিড পায় ইংল্যান্ড। এরপর ১৮ মিনিটে এজেরি কনসা ও ৩৭ মিনিটে বুকায়ো সাকা গোল করে ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমানোর সূচনা করেন। এর দুই মিনিট পর তার পাসেই বারকোলা গোল করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩। তবে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। শেষ দিকে বেলিংহামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম গুরুত্বের ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত দর্শকদের উপহার দিল বিশ্বকাপের অন্যতম আনন্দদায়ী মুহূর্ত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন