শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

মেসি বনাম এমবাপ্পে পরিসংখ্যান বলছে কে এগিয়ে রয়েছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

মেসি বনাম এমবাপ্পে পরিসংখ্যান বলছে কে এগিয়ে রয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে আবারও মুখোমুখি হয়েছেন দুই প্রজন্মের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল, অ্যাসিস্ট ও ড্রিবল থেকে শুরু করে সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গোলসংখ্যায় ফরাসি তারকা এগিয়ে থাকলেও খেলার সামগ্রিক প্রভাব, সুযোগ তৈরি ও গড় রেটিংয়ে এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।২০২৬ বিশ্বকাপের পর এই তুলনার আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসি খেলেছেন ঊনপঞ্চচল্লিশ ম্যাচ। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নেমেছেন ষাটটি ম্যাচে। গোল করার দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে; তিনি ষাট ম্যাচে করেছেন আটান্ন গোল, যার মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া গোল তেতাল্লিশটি। অন্যদিকে মেসি ঊনপঞ্চচল্লিশ ম্যাচে করেছেন পঁয়তাল্লিশ গোল, যার মধ্যে একচল্লিশটিই পেনাল্টি ছাড়া।

তবে গোল তৈরির ক্ষেত্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। পুরো মৌসুমে মেসি করেছেন ত্রিশটি অপটা অ্যাসিস্ট, যেখানে ফরাসি ফরোয়ার্ডের অ্যাসিস্ট মাত্র তেরোটি। ড্রিবলিংয়ে এমবাপ্পে সফল হয়েছেন একশত ছত্রিশটি, আর মেসির সফল ড্রিবল একশত সতেরোটি। বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে মেসি এগিয়ে থেকে সৃষ্টি করেছেন ছিচল্লিশটি বিগ চান্স, যেখানে এমবাপ্পের সংখ্যা কুড়িটি।

লক্ষ্যে রাখা শটের দিক থেকে এমবাপ্পে একশত চৌত্রিশটি শট নিলেও মেসির শট ছিল একশত ছয়টি। সঠিক পাসের সংখ্যায় এগিয়ে থেকে মেসি সফলভাবে এক হাজার সাতশত পঁয়ষট্টিটি পাস দিয়েছেন, এবং এমবাপ্পের সফল পাস এক হাজার ছয়শত দশটি। রক্ষণাত্মক অবদানেও মেসি এগিয়ে থেকে করেছেন ছেচল্লিশটি অ্যাকশন, যেখানে এমবাপ্পের ছিল ষোলোটি। সবমিলিয়ে মেসির গড় রেটিং আট দশমিক পঞ্চান্ন, আর এমবাপ্পের সাত দশমিক পঁচাত্তর।

৩৯ বছর বয়সেও মেসি প্রমাণ করেছেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা। অন্যদিকে সাতাশ বছর বয়সী এমবাপ্পে গোল করার দক্ষতায় দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। দলীয় সাফল্যের বিচারে মেসির মৌসুম ছিল সফল, যেখানে তিনি ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। অন্যদিকে এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে শিরোপা জিততে পারেননি এবং ফ্রান্সকে চতুর্থ স্থান নিয়ে আসর শেষ করতে হয়েছে।

ব্যক্তিগত অর্জনে এমবাপ্পে ছিলেন অনন্য। তিনি লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন। বিশ্বকাপেও দুই তারকা নতুন ইতিহাস গড়েন। মেসি টুর্নামেন্টে আট গোলসহ মোট একুশ গোল করেন, এবং এমবাপ্পে দশ গোলসহ মোট বাইশ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।আসন্ন দিনগুলোতে মেসি ইন্টার মায়ামিতে ফিরে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবেন। অন্যদিকে এমবাপ্পেকে নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ এবং জিনেদিন জিদানের অধীনে ফরাসি জাতীয় দলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে।